রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

পাবনার খবর
৪৩

মাদ্রাসার ৩১ এতিম শিশুর একমাসের ইফতার সামগ্রী দিলেন মানিক দাস

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২০  

পাবনার চাটমোহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করলেন সঞ্জয় কুমার দাস মানিক নামের এক অংকন শিক্ষক।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সোমবার দুপুরে উপজেলার বাহাদুরপুর কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ৩১ জন এতিম শিশুদের জন্য একমাসের ইফতার সামগ্রী উপহার দিলেন তিনি।

হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মাদ্রাসার এতিম শিশুদের জন্য তার এমন মহানুভবতা আপ্লুত করেছে এলাকাবাসীদের।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশ মতো উপজেলা মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা ছুটি দিয়ে ৩১ জন এতিম শিশুকে স্বজনদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ছুটির মেয়াদ বাড়ায় রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে ওই শিশুদের এতিম খানায় ফিরিয়ে দিয়ে যান তাদের স্বজনরা। এরপর প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ওই শিশুদের এতিমখানায় রেখে দেয়া ঞয়। তবে ওই শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলেও করোনা ভাইরাসের কারণে সহযোগিতা আসা বন্ধ থাকায় ইফতার সামগ্রী কেনা নিয়ে বিপাকে পড়েন মাদ্রসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিষয়টি স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন জানতে পেরে এতিম শিশুদের জন্য ইফতার সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

বিষয়টি এএসপির অফিসে বসে থাকা অংকন শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস মানিক জানার পর সোমবার দুপুরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০০ কেজি সোলা, ১টিন আখেঁর গুড় (৩৩ কেজি) ও ৫ কেজি খেজুর উপহার নিয়ে উপস্থিত হন ওই মাদ্রাসায়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেন ওই অংকন শিক্ষক।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এম এ মতিন, বাহাদুরপুর কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা মোহম্মদ আলতাব হোসাইন, শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

অংকন শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস মানিক বলেন, বাবা-মা না থাকলে যে কী হয় সেটা আমি বুঝি। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন অসহায় মানুষদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে অনেকেই সহযোগিতা করছেন। ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছেন। কিন্তু এই এতিম শিশুদের দিকে কারো নজর নেই! বিষয়টি এএসপি স্যারের মুখে শোনার পর খুব কষ্ট পেয়েছি। পরে তাদের জন্য একমাসের ইফতার সামগ্রী উপহার দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন বলেন, ইসলামে এতিম শিশুদের হক সবার আগে। বিষয়টি শোনার পর খুব কষ্ট লাগছিল। চেষ্টা করেছিলাম কিছু করা যায় কিনা। কিন্তু  সঞ্জয় দাস মানিক শোনার পর যে মহানুভবতার পরিচয় দিলেন এ যুগে এমন ঘটনা বিরল। এ সময় এএসপি ওই এতিম শিশুদের যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স/এমএস

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর