বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬   ০২ রজব ১৪৪১

পাবনার খবর
১২

ভাঙ্গুড়ায় প্রভাবশালীদের বাধায় ভূমিহীনদের বোরো আবাদ বন্ধ

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে প্রভাবশালী জোতদারদের বাধায় সরকারীভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া বোরো ধানের জমি আবাদ করতে পারছেন না তিন নারী কৃষক মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী এসব জমির মালিকানা দাবী করে সংশ্লিষ্ট (স্কিম) স্যালো মালিকদের ঐ জমিতে পানি দিতে দিচ্ছে না। ফলে এসকল জমিতে বোরো ধান চায় অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ঐ সকল জমির বন্দোবস্ত পাওয়া তিন ভূমিহীন নারী সোহাগী খাতুন, হানুফা খাতুন ও আনোয়ারা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তারা তিনজন ইউনিয়নের বৃদ্ধমরিচ গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পাবনার জেলা প্রশাসক কবুলিয়ত রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে ইউনিয়নের “কানার বিল” নামক স্থানে হানুফা খাতুনকে ৯ শতক, আনোয়ারা খাতুনকে ২০ শতক ও একই ইউনিয়নের খানমরিচ বিলে মোহাগী খাতুনকে ২৫ শতক আবাদী জমি দেন। তার আগে এই সকল জমি গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল হান্নান, শামসুল ও কাদের আীলর ৮ ছেলে ভোগ দখল করত। তাদের দখলে থাকা জমি জেলা প্রশাসন ঐ ভুমিহীন নারীদের বন্দোবস্ত দেয়ায় তার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই ওই জমিতে ফসল আবাদ করতে তারা বিভিন্নভাবে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ এসব জমিতে বোরো চাষের উদ্যোগ নেন ওই নারীরা। কিন্তু প্রভাবশালী জোতদার হান্নান, কাদের ও শামছুলের নির্দেশে ওই মাঠের সেচ প্রকল্পের মালিক নাসির উদ্দিন এসব জমিতে পানি দিচ্ছেন না। এতে বোরো ধানের চারা রোপন করা যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ওই নারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। গত বছর এদের বিরুদ্ধে ঐ জমিতে রোপর করা ধান রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করা অভিযোগ উঠেছিল এদের বিরুদ্ধে। সে সময় এই নারীরা এই বিষয়ে জেলা প্রসাশকের নিকট অভিযোগও করেছিলেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে সেচ প্রকল্পের মালিক নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

খানমরিচ ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সেচ প্রকল্পের মালিক নাসিরকে জমিতে পানি দিতে বলেছি। কিন্তু গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ওসব জমির মালিকানা দাবি করে নাসিরকে পানি দিতে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। এতে নাসির পানি দিচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে ও সব জমিতে সেচের ব্যবস্থা করে দিতে বলেছি। এরপরও জমিতে সেচ না দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এমএমআই

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর