বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৭ ১৪২৬   ০৭ শা'বান ১৪৪১

পাবনার খবর
২০

পাবনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রাণনাশের হুমকি

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০  

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদার ও তার ম্যানেজার। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় ডায়েরি করেছেন তিনি।

জানা যায়, এলজিইডি আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর জিসিএম-বনওয়ারিনগর জিসিএম সড়ক পুনর্বাসন কাজ করছেন পাবনা সদরের পাটিকিয়া বাড়িস্থ ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ। ওই কাজে ২৮/৩০ ট্রাক নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের ইটের খোয়া রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশা মিয়াকে।

নির্বাহী প্রকৌশলী থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, রাস্তাটির পুনর্বাসন কাজে ইটভাটা থেকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ পেয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাদের নিষেধ তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন। ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহর কাছ থেকে এর আগেও জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ও জেলার আতাইকুলাতে পৃথকভাবে ৩৬ ট্রাক নিম্নমানের খোয়া জব্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজের খোয়াগুলো ধানুয়াঘাটা ইউনুছ আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। ঠিকাদারের দাবি, কলেজ অধ্যক্ষকে টাকা দিয়েই খোয়াগুলো রাখা হয়েছে। অবশ্য অধ্যক্ষ তোরাব আলী বলেন, টাকা নয়, এলাকার কাজ তাই খোয়াগুলো রাখতে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া বলেন, গত ১৩ মার্চ রাত ১১টার সময়ে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র পার্টনার নজরুল ইসলাম ঝন্টু আমাকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি আমাকে দেখে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়েই কাজ বাস্তবায়ন করবেন এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন আমাকে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবই মিথ্যা। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।

এদিকে ঠিকাদার জিন্নাতের পার্টনার অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ঝন্টুর মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জিডির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

স/এমএস

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর