রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০   চৈত্র ১৪ ১৪২৬   ০৪ শা'বান ১৪৪১

পাবনার খবর
২১

পাবনায় ২৪ ঘন্টায় ১৭৭ বিদেশীসহ ৩২৯ জন হোম কোয়ারেন্টিনে

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২০  

করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে পাবনায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৭৭ বিদেশী নাগরিকসহ ৩২৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে পাবনায় মোট ৩৯৯ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বিদেশী নাগরিকদের সবাই ঈশ^রদী উপজেলায় রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সদর উপজেলায় ২২, ঈশ্বরদীতে ২৭৯, আটঘরিয়ায় ৭, বেড়া ৭, চাটমোহরে ৪, ভাঙ্গুড়ায় ২, ফরিদপুরে ৭ এবং সুজানগরে ৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ মেহেদী ইকবাল জানান, বৃহঃস্পতিবার দুপুর পাবনায় বিদেশ ফেরত ৫৮ জন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। বৃহঃস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩২৯ জন ব্যক্তিকে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বিদেশী নাগরিকরা সবাই রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিক। তাদের রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক ভবন গ্রীণ সিটিতে রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরো জানান, ঈশ্বরদী উপজেলায় ইপিজেড ও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে রাশিয়া, চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ হাজার বিদেশী নাগরিক অবস্থান করায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমন ইতিহাস পর্যালোচনায় যারা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, করনা আতঙ্কে জেলা শহরে লোক সমাগম কম হলেও হাজির হাটসহ শুক্রবার বসা বিভিন্ন হাটে ব্যপক লোক সমাগম দেখা গেছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাবনা জেলা প্রশাসক দুপুরে মাইকিং করে জেলায় সকল সভা, সেমিনার, মিটিং, আলোচনাসভাসহ সকল সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে লক ডাউন বা শাট ডাউন হতে পারে এমন শঙ্কায় ক্রেতারা বাজারে ভীড় করছেন।

বিশেষ করে চাউলের দোকানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন। এই সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে বাড়তি মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে তবে ক্রেতাদের অভিযোগ পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের অতিরিক্ত উপস্থিতি বুঝতে পেরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে। অসহায় সাধারন মানুষ বাড়তি দামে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করতে দেখা যায়। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করলেও বাজার থেকে চলে আসার পরে আবারো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বিক্রেতারা। তবে এই অবস্থায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোড়দার করা জরুরী বলে মনে করছেন ভোক্তা সাধারনের।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, করনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তবে, অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনের শর্ত ভেঙে বেরিয়ে পড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া, অযৌক্তিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

স/সা

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর