শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

পাবনার খবর
৩৩

পাবনায় শিশু সুমনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল আরেক শিশু নাঈম

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২০  

শিশু সুমনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো ১১ বছর বয়সের আরেক শিশু ও হত্যাকারী নাঈম। নাঈম সোনাহারা এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র এবং একই গ্রামের এরশাদ হোসেনের ছেলে।

গত মঙ্গলবার পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামের সজিব হোসেনের কনিষ্ঠ মেয়ে সুমনা (৪) এর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর থানা পুলিশ। ঐদিন এরশাদ হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী নারগিস (৪০) এবং তাদের বড় সন্তান নাঈম (১১) কে থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জেরার মুখে নাঈম সুমনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বুধবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। 

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি তদন্ত জালাল উদ্দীন ও ফরিদপুর থানা ইনচার্জ এস এম আবুল কাসেম আজাদ জানান, সুমনা হত্যার পর নাঈম এবং তার বাবা মাকে আটক করা হয়। জেরার এক পযায়ে নাঈমকেও জিজ্ঞাসা করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।

নাঈম তার বর্ণনায় বলে, ‘গত শনিবার বেলা ১০টার সময় ইট ভাটার নিকট সুমনা ও তার ছোট ভাই আজাদ (৩) খেলা করছিল, খেলাধুলার এক পযায়ে আজাদকে সুমনা ধাক্কা দেয়। এতে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনার গলা চেপে ধরে কিছুক্ষণ পর সুমনা নিস্তেজ হয়ে পরলে সে তার নাকে হাত দিয়ে দেখে সুমনার শ্বাস আছে কি না? সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত হলে সে তাকে কাঁধে নিয়ে পাশেই নাঈম এর ফুপা রবিউলের নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে যায়’। ঐ বাড়ীর চাবি নাঈমের কাছে থাকায় দরজা খুলে ঘরের মেঝেতে সুমনার লাশ রাখে। পরবর্তীতে সে স্বাভাবিক ভাবেই তার ছোট ভাই ও অন্যদের সাথে আবারও খেলতে থাকে। তবে মাঝে কয়েকবার সে জানালা দিয়ে সুমনার লাশ দেখতে যায় এবং লাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে।

গত সোমবার বিকেলে আবার দেখতে গেলে লক্ষ্য করে লাশের উপর মাছি পরছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। ধরা পরার ভয়ে সে ঘরের তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে থাকা বালি ভর্তি বস্তার বালি ফেলে বস্তার মধ্যে সুমনার লাশ ভরে। ঘরের সানসেটে রাখা ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ার পেরে একটি ড্রয়ারে সুমনার লাশ তুলে ঘরের বারান্দায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিলো লাশটি পাশের ক্ষেতে ফেলে দেওয়া। কিন্তু ইট ভাটার লোকজন কাজ করায় তা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনা বর্ণনার সময় সে সম্পুর্ণ স্বাভাবিক ছিলো, তাকে কোন প্রকার ভীত দেখা যায়নি।

তবে সুমনার বাবা সজিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে নাঈমের বাবা-মাও জড়িত ছিল। তা ছাড়া নাঈমের একার পক্ষে  হত্যা করার পর লাশ গুম করার অপচেষ্টা কোনভাবেই সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার পাবনার ফরিদপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কন্যাশিশু সুমনার অর্ধগলিত লাশ  উদ্ধার করে পুলিশ।

স/এমএস

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর