বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬   ০২ রজব ১৪৪১

পাবনার খবর
৩০

পাবনার ‘আরিফ বাহিনী’ প্রধান কারাগারে: দায়িত্ব পালন করছে মনি

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

আরিফ

আরিফ

পাবনার সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম আরিফ বাহিনী প্রধান আরিফকে গ্রেফতারের পর আরিফ বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড দুর্ধর্ষ অস্ত্রবাজ মনি। পাবনা পুলিশ গত ২৩ জানুয়ারি গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে আরিফকে গ্রেফতার করে। আরিফ এখন পাবনা জেলা কারাগারে আটক রয়েছে। তার । আরিফ গ্রেফতার হওয়ার পর এ বাহিনী সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন রকমের অপরাধসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

এলাকার একাধিক সূত্রমতে জানা গেছে, অস্ত্রবাজ মনিরুল ইসলাম মনি স্থানীয় মালিগাছা ইউনিয়নের মালিগাছা গ্রামের মৃত বজলুর রহমান শেখের ছেলে। বিগত ২০১৮ সালের ৭ জুন রাতে পাবনা র‌্যাব-১২ এর একটি টিম মালিগাছা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী মনির বসতবাড়ীর শয়নকক্ষের তোষকের নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্রসহ অত্যাধুনিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে।

র‌্যাবের অভিযান টের পেয়ে মনি দ্রুত পালিয়ে যায়। পরদিন ৮ জুন র‌্যাবের ডিএডি গোলাম রব্বানী বাদি হয়ে আসামী মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পাবনা থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৭। এ মামলা তদন্ত শেষে মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ৩০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মনির বিরুদ্ধে পাবনা থানায় অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

গত ১৭ জানুয়ারি একটি ধর্ষণ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূরপুর গ্রামের আলিম নামক এক যুবককে পাবনার গাছপাড়া বাইপাস মোড়ে ডেকে নিয়ে আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খায়রুল ইসলাম। এসময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান শরিফের ছোট ভাই আরিফের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদল। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কিছু সময় কথা বলার পরই আরিফের সশস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী তার উপর হামলা করে। পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে ও মারপিট করে আলিমকে গুরুত্বর যখম করে।

ঘটনাস্থলের পাশের একটি সিসি ভিডিও ফুটেজে মারপিটে সময়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। পরে সিসি টিভিতে ধারণকৃত ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নড়েচরে বসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর পাবনা পুলিশ ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী আরিফকে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যে ধর্ষণ মামলা ও মারপিট মামলায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।

তবে ধর্ষণ মামলার আসামি স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরিফকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বহাল তবিয়তে এলাকায় ঘোরাফেরা করছে চেয়ারম্যান শরিফ। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলামকে পাবনা থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) শামিমা আক্তার। পাবনার সকল মহলের কাছে প্রশ্ন কে এই আরিফ? 

আরিফুল ইসলাম আরিফের পিতা সাবেক মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী। মালিগাছা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তার বাড়ী। ইতিপূর্বে সে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার পেছনে রয়েছে তার দুলাভাই আব্দুর রাজ্জাকের ফাস্ট ফিলিংস নামে একটি যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরীর প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য। এই ফাস্ট ফিলিংস কারখানার এনার্জিং ড্রিংকসের নামে যৌন উত্তেজনক সিরাপ তৈরী করা হয়। পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার শহর এবং গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয়ে থাকে এই যৌন উত্তেজনক সিরাপ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে পুলিশ এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করেননি। এ ব্যাপারে পাবনা মানবধিকার কর্মীরা অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসী আরিফসহ তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স/এমএমআই

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর