রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

পাবনার খবর
১৭

নাজাতের আশায় স্বাগত মাহে রমজান

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২০  

গতকাল সন্ধ্যায় রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের চাঁদ উঠেছে। শুরু হলো রহমতের মাস রমজান। মহামারি করোনায় নাজাতের ওসিলায় আহলান সাহলান মাহে রমজান...।

হে আল্লাহ! রমজানকে মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তিময় করে দিন। রমজানের শান্তি মুসলিম উম্মাহকে দান করুন। রমজানের শান্তি মুসলিম উম্মাহর জন্য কবুল করুন। রমজানের রহমত ও বরকতে পুরো বিশ্বকে মহামারি করোনামুক্ত করে দিন।

এ মাসের ফজিলত বর্ণনায় হাদিসে কুদসিতে বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামতের ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ- ‌‌‘‌মানুষের প্রতিটি নেক কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে কিন্তু রোজা ছাড়া। রোজা শুধু আমার জন্য। আর আমি রোজার প্রতিদান দেব।' (মুসলিম)

কুরআন নাজিলের মাস এটি। কুরআনের সুমহান শিক্ষা অনুসরণ করেই রমজানকে বরকতময় করে তুলবে মুমিন মুসলমান। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়নই মানুষকে আলোকিত করবে। রোজা পালনের মাধ্যমেই নিজ নিজ কাওমকে আলোকিত করতে আসমানি গ্রন্থ তাওরাত ও ইঞ্জিল পেয়েছিলেন হজরত মুসা ও ঈসা আলাইহিস সালাম।

মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো তিনি রোজা পালনের পর এ মহাগ্রন্থ দান করেননি বরং বরকতময় রমজান মাসে কুরআন নাজিল করার কারণেই বান্দার প্রতি খুশি হয়ে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে পুরো মাসটি রোজা রাখার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

মুসলিম উম্মাহর জন্য এর চেয়ে বড় সুসংবাদ ও নেয়ামত আর কি হতে পারে যে, এ মাসটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য মহাপুরস্কার। বান্দা যেন এ পুরস্কারের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে। সে জন্য এ মাসকে নিজের মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। আর বান্দা যেন শান্তিতে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে সে আলোকে-
‌‘‌শয়তানকে বন্দি করেন, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন এবং সুশীতল পরিবেশে ইবাদতের সুযোগ লাভে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।'

মহামারি করোনার কারণে পাড়া-মহল্লায় সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করতে না পারলেও ব্যক্তি-পরিবার থেকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যম ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এ বার্তা পৌঁছে দিন যে-

‌কুরআন নাজিলের মাস রমজান রহমতের বার্তা নিয়ে আমাদের সামনে সমাগত। তাই দুনিয়ার সব খারাবি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করি। রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতে নিয়োজিত হই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
‘যারা ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের নিয়তে রমজানের বিশেষ নামাজ তারাবিহ পড়বে, আল্লাহ তাআলা সেসব বান্দার আগের জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।' সুবহানাল্লাহ!

রমজানের সফলতা লাভে প্রতিদিন বিশ্বনবির এ ঘোষণার প্রতি সতর্ক হই-
‘এ পবিত্র মাসে যারা রোজা রেখে মিথ্যা, পরনিন্দা (গিবত) ত্যাগ ও অন্যান্য পাপাচার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারলো না; তাদের দিনভর উপবাসে আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন নেই।’

কেননা যারা নীতি-নৈতিকা ও আত্মিক পরিশুদ্ধতার জন্য রোজা পালন করে হাদিসের ঘোষণায়- ‘তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও বেশি সুগন্ধি মনে হয়।’

রমজানের এ প্রশিক্ষণে যারা নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে বছরের বাকি ১১ মাসও রমজানের মতো নামাজ, রোজা, মন্দ কাজ পরিহারের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবার ও সমাজ তৈরিতেও সফল হবে মুমিন।

রমজানের প্রতিটি দিন ও ক্ষণ হোক গোনাহমুক্ত জীবন লাভের পাথেয়। তাই রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের জন্য কুরআনের হেদায়েত লাভ এবং মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভে রমজানকে জানাই আহলান, সাহলান; শুভ হোক মাহে রমজান...

পাবনার খবর