সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১২ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পাবনার খবর
২৬

দুদফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি পাবনা শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণ কাজ

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

কাজ শুরুর পর দু’দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন নির্মাণ কাজ। ফলে এখনো ভাড়া বাড়িতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম। মিলনায়তনের অভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজনে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে শিল্পকলা একাডেমি ও জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের কাচারিপাড়া মহল্লায় চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে। ভবনে একটি মিলনায়তন, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও একাডেমির নিজস্ব কার্যালয় থাকবে। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ এগিয়ে নিতে আরও অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেছে গণপূর্ত বিভাগ। ভবনের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে সাজিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহাদত হোসেন। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’র ঘটনায় দুদকের করা মামলায় কারাগারে আছেন।

গণপূর্ত বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্মাণের সময় নির্ধারণ ছিল ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে সময় আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালে জুন মাস পর্যন্ত করা হয়। এরপরও নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় আবার ২০২০ সালে জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল পাবনা সফরে এসে নির্মাণাধীন শিল্পকলা একাডেমি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের ধীর গতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইচ্ছা ছিল নতুন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। কিন্তু নির্মাণকাজের ধীরগতি সেই ইচ্ছায় ব্যাঘাত তৈরি করেছে। এটা মেনে নেয়ার মতো নয়। নতুন করে বাড়ানো মেয়াদের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব কার্যালয় নেই। জেলা পরিষদের কাছ থেকে মাসে আট হাজার টাকা ভাড়ায় তিনটি কক্ষ নিয়ে কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩০০ জন। ভাড়া ভবনের তিন কক্ষের একটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হয়। বাকি দুটিতে চলে প্রশিক্ষণ। মাঝেমধ্যে প্রশিক্ষণের দুই কক্ষের একটি জেলা পরিষদ তাদের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করে। এ কারণে অনেক সময় এক কক্ষেই সব বিভাগের প্রশিক্ষণ চালাতে হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মারুফা মঞ্জরি খান জানান, কক্ষ সংকটে মাঝেমধ্যে উঠানে বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব কর্মসূচিও থাকে। মিলনায়তনের অভাবে খোলামাঠে সেসব কর্মসূচি পালন করতে হয়। বিষয়টি বেশ কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। এরপরও ভবনটির নির্মাণ শেষ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেন, ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করতে চেষ্টার ত্রুটি নেই। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি কাজ শেষ করতে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। মাঝখানে কিছু জটিলতায় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

স/এমএমআই

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর