ব্রেকিং:
পাবনায় কাভার্ডভ্যান-মিনি ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬   ০৪ রজব ১৪৪১

পাবনার খবর
২০

একটি মাত্র টয়লেটে ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে চলছে যাত্রীসেবা!

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শত বছরের পুরনো ব্রিটিশদের গড়া ঐতিহ্যবাহী পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন। শ্রেণিগতভাবে স্টেশনটি প্রথম শ্রেণির হলেও মান্ধাতার আমলের অবকাঠামো আর জনবল সংকটের কারণে যাত্রীসেবার মান মুখ থুবড়ে পড়েছে। দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবস্থা ও দূরের যাত্রীদের বিশ্রামাগার না থাকায় কষ্ট পোহাতে হয় রেল যাত্রীদের। প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য একটি মাত্র টয়লেট থাকলেও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির যাত্রীর কোনও টয়লেট ব্যবস্থা নেই। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে আশানুরূপ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রেলওয়ে অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৮৭৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভারতের শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে কুষ্টিয়ার দামুকদিয়া(পদ্মা নদীর দক্ষিণে) ঘাট এবং ফেরিতে নদী পার হয়ে সাঁড়াঘাট হয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগের জন্য ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনটি প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে ১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তৈরি হলে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ছয়টি রুটে প্রতিদিন ১৮-১৯টি ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে যশোর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর বিভিন্ন রুটে চলাচল করতো। এসব ট্রেনের বেশির ভাগই ছিল মালবাহী। সেসময় এই স্টেশন দিয়ে দিনে এক হাজার থেকে ১২০০ লোক যাতায়াত করতো। বর্তমানে ঈশ্বরদী স্টেশনের চারটি প্লাটফর্মে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ৩৫টি ট্রেন ও মালবাহী আরও ১০টিসহ মোট ৪৫টি ট্রেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা যাওয়া করে। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া দুটি মৈত্রী ট্রেন এ স্টেশন হয়ে যায়।

ট্রেন যাত্রা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্য ভেবে দিনে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার যাত্রী এসব ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করে থাকে। এরপরও পরিবহন ট্রেনে মালামাল উঠানামা করে থাকে।

স্টেশনের যাত্রী হাবিবুল ইসলাম, গণেশ চন্দ্র ও এস্কেন্দার আলী বলেন, এতো অধিক সংখ্যক যাত্রীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট ব্যবস্থা যাত্রীদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া স্টেশনে ওয়েটিং রুমের সমস্যা, ক্যান্টিন সমস্যা, হকারদের উৎপাত, টিকিট কাউন্টার ওপারে হওয়ায় যাত্রীদের কষ্ট পোহাতে হয়। আগে যাত্রীদের ওয়েটিং রুমের পাশে খাবারের জন্য সুন্দর ক্যান্টিনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সেসব ব্যবস্থা এখন আর নাই। এসব ব্যবস্থা থাকলে দূর দূরান্তের যাত্রীরা একটু আরাম পেত।

ঈশ্বরদী রেলস্টেশন নিয়ে কথা বলতেই পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি শিক্ষাবিদ প্রফেসর শিবজিত নাগ বলেন, ঈশ্বরদী স্টেশনটির টিকিট কাউন্টার, টয়লেট ব্যবস্থা ও যাত্রীদের বিশ্রামাগার পরিচ্ছন্ন ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেল ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করায় আগের চেয়ে রেল ব্যবস্থা বেশ উন্নত হয়েছে। এজন্য মানুষ এখন ট্রেনে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তবে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে কর্তৃপক্ষের আরও বেশি তদারকি প্রয়োজন।

ঈশ্বরদী স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার সেকেন্দার রাশেদী পান্না জানান, ইঞ্জিন স্বল্পতা, মাস্টার, গার্ড, এলএম, ট্রেন পরীক্ষক, ওয়াশম্যানসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে আশানুরূপ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্টেশনের অবকাঠামো আধুনিকরণ ও জনবল সংকট সমাধান হলে সেবার মান উন্নত হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আধুনিকতার ছোয়ায় ঈশ্বরদী স্টেশনের ব্রিটিশদের করা অবকাঠামো পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে রেল যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি করবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

স/এমএস

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর