শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

পাবনার খবর
৩৯

অতিরিক্ত মূল্য রাখায় ঈশ্বরদীতে চার ব্যবসায়ীর জরিমানা

পাবনার খবর

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২০  

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতংকের সুযোগ নিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ করতে শুরু করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে পাবনার ঈশ্বরদী বাজারে। বাড়তি দামে চাল-পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছেন বিক্রেতারা।

খবর পেয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল পাইকারি নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে অভিযান চালান।

পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোয় ঈশ্বরদী বাজারের ভাই ভাই রাইস সপ এজেন্সিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়াও আড়ত ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে সাড়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে, শহরের রেলগেট এলাকায় নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রির অপরাধে আলিফ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার, সীমা হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা ও পাবনা সুইটসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শুক্রবার ঈশ্বরদী বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও রসুন কিনে মজুদ করছেন। ফলে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। দুই দিনের ব্যবধানে ঈশ্বরদী বাজারে চাল ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি দাম বেড়েছে আদা, রসুন ও আলুর।

আজকের দর অনুযায়ী, শুক্রবার চাল ৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে যা গত বুধবারও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা দুইদিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা বুধবার ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। আর ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ টাকায়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল জানান, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে কেউ যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে পারে। মজুদ থাকার পরও নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়াতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন আজ থেকে মাঠে থাকবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।

স/এমএস

পাবনার খবর
এই বিভাগের আরো খবর